রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক :: শতাধিক রোজাদার মানুষ যেনো রোজা রাখতে পারে, সেজন্য সেহরি নিয়ে মধ্যেরাতে ছুটেছেন ফরিদপুর জেলা পুলিশের সদস্যরা।
জেলা শহরের তিনটি স্পটে তারা প্রায় শতাধিক রোজাদার মানুষের জন্য মধ্যরাতে রান্না করে সেই খাবার নিয়ে তারা ছুটে চলছেন সেহরি খাওয়াতে। গত কয়েকদিন যাবত তারা নিয়ম মেনে এই দৃষ্ঠান্তমূলক কাজটি করে যাচ্ছেন।
জানা যায়, ফরিদপুর পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামানের নির্দেশে রির্জাভ অফিসার আনোয়ার হোসেন তার সহকর্মীদের নিয়ে এই কাজটি করছেন। বিষয়টি পুলিশ সদস্যরা খুব গোপনে চালিয়ে যাচ্ছিলেন উত্তরবঙ্গ থেকে আসা এইসব শ্রমিকদের জন্য। তারা শহরের তিনটি স্পট মাইক্রোস্ট্যান্ড, নতুন বাসস্ট্যান্ড ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থাকা বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শতাধিক অভুক্ত মানুষের জন্য কাজটি করছেন।
এর আগে তারা জেলার নিম্মবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জন্য খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এবার এই কাজটি এক অন্যন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বলে মনে করা হচ্ছে।
রির্জাভ অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, গত কিছুদিন হলো আমরা খুব গোপন করে এইসব অভুক্ত মানুষের জন্য রাতে সেহরি নিয়ে আসি খাওয়ানোর জন্য। তাদের খাওয়া দাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকি আমরা। এসপি স্যারের নির্দেশে আমরা এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, রোজার পুরো মাস ধরে এই কার্যক্রম আমরা চালিয়ে যাব। তারা এতোদিন ভোরে খেয়ে না খেয়ে রোজা রাখতো, এটা স্যার জানার সাথে সাথে আমাদের নির্দেশ দেন আমাদের নিজেদের সেহরির সাথে তাদের জন্য সেহরির ব্যবস্থা করতে। সেই মোতাবেক কাজটি আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।
এ ব্যাপারে জানতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. সাইফুজ্জামান বলেন, কদিন আগে আমাদের এসপি স্যারের কাছে একটি ফোনকল আসে খাবার সহায়তার জন্য। যে লোকটি ফোন করে তার বাড়ি বগুড়ার জয়পুর এলাকার। এরপর স্যার রির্জাভ অফিসারকে দায়িত্ব দেন খোঁজ নেয়ার জন্য। এ সময় তাদের জন্য দুটি ত্রাণসমাগ্রীর প্যাকেট নিয়ে সেখানে গেলে তারা জানায়, তাদের প্লেট বা রান্না করে খাওয়ার মতো কোন ব্যবস্থা নেই। এরপর থেকেপ্লেট ও খাবার রান্না করে সেহরির পূর্ব মূহুর্তে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে তো কোন সরকারি মানবিক সহায়তা আসে না। তবে আমাদের পুলিশ সদস্যরা তাদের মাসিক বেতন থেকে অর্থ সংগ্রহ করে কিছু কিছু করে সহযোগিতা করেছি।
তিনি আরো বলেন, একটি ফান্ড তৈরী করে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ লোকের মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসনের কাছে ত্রাণের কোন ফান্ড না থাকলেও হতদরিদ্ররা অফিসে এসে ভিড় করে যাচ্ছে। আমাদের সাধ্য অনুযায়ী মানাবিক সহায়তার ফান্ড তৈরী করে সহযোগিতা করতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।